পশ্চিমবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু – আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তিনটি লুপ্ত প্রায় সম্প্রদায় হল বীর হোড় , লোধা শবর ও টোটো। আজ তাদের নানা অভাব অভিযোগের বিবরণ শুনলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজভবনে। বিকেল চারটে নাগাদ এক অনুষ্ঠানে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ডঃ সি ভি আনন্দ বোস ।
এই তিন জনজাতির ১৯ জন প্রতিনিধি হাজির ছিলেন রাজভবনে। তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়েছে। জঙ্গলের লাগোয়া এলাকায় বসবাস তাদের। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে কোনও সুবিধা মিলছে না বলে জানানো হয়েছে। নিজস্ব জমি না থাকায় তারা ঐ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি হয়ে একথাও সরাসরি জানালেন তিন প্রতিনিধি।
বীরহোড় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি তিলোত্তমা শিকারি অষ্টম শ্রেণি পাশ। চাকরি ও জমি চেয়েছেন তিনি। এ কথা সরাসরি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, জমির অধিকার দরকার। টোটো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রীতা টোটো আজকের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কাছে জানালেন, ১৬০০ জনজাতির বসবাস। আলিপুরদুয়ার জেলার টোটো পাড়ার সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়, জঙ্গল ও নদী রয়েছে। রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

এদিকে, শবর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যিনি সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত মৃনাল কোটাল রাষ্ট্রপতিকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষার উন্নয়নে অতীতে কাজ করেছেন এই সম্প্রদায়ের তৎকালীন প্রতিনিধি চুনী কোটাল। এক কথায়, তিন প্রতিনিধি রাজ্য সরকারের তরফে নানা সমস্যার সমাধানে অসহযোগিতার কথা স্পষ্ট করে তুলে ধরে নালিশ করেন। এর জবাবে তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফেও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের কল্যাণে ও তাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবরকম সহযোগিতা দরকার। এই তিন জনজাতির প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, সমাজের অন্যান্যদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। অন্যান্যদের জন্য সাহায্য ও সহযোগিতা দরকার। মনের ভয় কাটিয়ে তুলতেই হবে এই বলে অভয় দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, আজকের অনুষ্ঠানে মহিলাদের অংশ গ্রহণ পুরুষদের তুলনায় বেশ কম ছিল। তাই এ বিষয়ে সকলের নজরে আনেন বিষয়টি। সবশেষে, রাষ্ট্রপতি ১৯ জন প্রতিনিধির হাতে স্মারক তুলে দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নির্মিত এক ভিডিও প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানের মাঝে দেখানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফেও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের সচিব ছোটেন ধেনডুপ লামা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া (৪) চার জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু
আরও পড়ুনঃ
- কারক ও বিভক্তি কাকে বলে? | শিক্ষা – Madhyamik 2023
- পিএস ভোপাল যেটির পরিবর্তিত নাম বেঙ্গল প্যাডেল, এখন পর্যটনক্ষেত্র
- উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় কেশর চাষে সফলতা পেলেন বিজ্ঞানীরা
- ভারতের মন্দির – জ্বালামুখী (Jawalamukhi)
- অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র আদিনা মসজিদ
- বর্ধমানের বোর হাটের সাধক কমলাকান্তের কালীবাড়ি
- অশােকস্তম্ভ – এর ইতিহাস
- পদান্বয়ী অব্যয় কাকে বলে?
- Number: – Types, Rules & Examples (English Grammar) বাংলায় বচন কি, কত প্রকার
- Pronoun (সর্বনাম) কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? উদাহরণ দাও
- একান্নটি সতীপীঠের অন্যতম বীরভূমের কঙ্কালীতলা
- নদীয়ার কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর রাজরাজেশ্বরী মাতার পুজো
- বারানসি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে নবমী পুজোর দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে লাঠি খেলা
