সাহিত্যিক সমরেশ বসুর ১০০তম জন্মদিন আজ

সাহিত্যিক সমরেশ বসুর ১০০তম জন্মদিন আজ

কলকাতা

কলকাতাঃ সাহিত্যিক সমরেশ বসুর ১০০ তম জন্মদিন আজ – ছোট গল্পে ডাবল সেঞ্চুরি ও শতবর্ষে পদার্পণ অথচ তাঁর সাহিত্যে সৃষ্টির ক্ষেত্রেও সেঞ্চুরির রেকর্ড ঝুলিতে। এ কোনও ধাঁধা নয়, তবে কোন সাহিত্যিকের পিতৃদত্ত নাম সুরথ বসু। বাংলা সাহিত্যের এক ব্যতিক্রমী চরিত্র তথা সুলেখক সমরেশ বসু-র শতবর্ষে পদার্পণ। আজ ১১ ডিসেম্বর, শততম জন্মবার্ষিকী। ছোট গল্প ও সাহিত্যের মাপকাঠিতে সেঞ্চুরির বন্যা। একশো বছর অতিক্রান্ত একশো’র অধিক উপন্যাস।

ডাবল সেঞ্চুরি – ছোটগল্পে। “উত্তরঙ্গ” থেকে “দেখি নাই ফিরে” পর্যন্ত প্রায় একশোটি উপন্যাস এবং দুই শতাধিক ছোটগল্পের এই লেখকের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নদীয়া জেলার নবদ্বীপ ‘কথাশিল্প’ এক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মফঃস্বলের সাহিত্য প্রেমীদের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের জন্য উৎসাহ প্রকাশের পাশাপাশি ‘প্রাণিত’ – বোধ করছি বলে এক শুভেচ্ছা পত্রে জানিয়েছেন সাহিত্যিক তনয় নবকুমার বসু।

জন্মবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠান ছিল বকুলতলা প্রাক্তনীর সভাগৃহে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম সুরথ বসু। পরবর্তীকালে তাঁকে সাহিত্য প্রেমীরা সমরেশ, কালকূট, ভ্রমর ইত্যাদি ছদ্মনামে পেয়েছেন। সমরেশ বসু এই নামেই যদিও তিনি সমধিক পরিচিত। উল্লেখ্য, একদা জীবিকা নির্বাহের জন্য সবজি, ডিম ইত্যাদি বিক্রি যেমন করেছেন, তেমনই ছবি এঁকে দিন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৪৯ এ কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পরপর ইছাপুর-নৈহাটি অঞ্চলের জুটমিলে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে সমরেশের জেল যাত্রা ও তার প্রেক্ষিতেই সংশোধনাগারে সময় কাটাতে হয়েছে। গৌরীদেবীর সঙ্গে তখন বৈবাহিক সম্পর্কে নতুন জীবনে প্রবেশ।

সাহিত্যিক সমরেশ বসুর ১০০তম জন্মদিন আজ

সংশোধনাগারে বসেই “উত্তরঙ্গ” উপন্যাস তিনি লিখেছেন। এরপরে জেল থেকে মুক্তি। কারা জীবন থেকে ছাড়া পেয়েই সিদ্ধান্তে স্থির, লেখাকেই ‘জীবিকা’ হিসেবে উপস্থাপন করে তুলবেন। অদম্য জেদ আর চারপাশে দেখা মানুষগুলোর জীবনযাপন লিখতে লাগলেন। শিরোপা জিতলেন “শাম্ব” লিখে পুরস্কৃত। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তৎকালীন সময়েই এক অসামান্য লেখকের জন্ম বাংলা সাহিত্যের আঙিনাতে।

কথাশিল্প’র আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমরেশ বসুর শৈশব থেকে শুরু করে ব্যক্তি জীবন, সেই সঙ্গে সাহিত্য জীবন নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও বাচিক শিল্পী ও প্রাবন্ধিক পীতম ভট্টাচার্য। ১৯৪৬ সালে “পরিচয়” শারদ সংখ্যায় প্রকাশিত “আদাব” গল্পটির শ্রুতিনাটক পরিবেশনায় তরুণ নাট্যগোষ্ঠী। তাঁর গল্প পাঠ করে শোনান দেবাশিস নন্দী। এছাড়াও ছিলেন চপল বিশ্বাস, সুব্রত গাঙ্গুলি, সুপর্ণা আইচ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সঞ্চালনা করেন উপাসনা মুখার্জী।

সাহিত্যিক সমরেশ বসুর ১০০তম জন্মদিন আজ।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *