রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৭৮তম স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভাষণ

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৭৮তম স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভাষণ

দেশ

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৭৮তম স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভাষণ – আমার প্রিয় দেশবাসী, আমি আপনাদের সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই।

সমস্ত দেশবাসী ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকা উড়তে দেখে – তা সে লালকেল্লায় হোক, যেকোনও রাজ্যের রাজধানীতে হোক কিংবা আমাদের আশেপাশে – আমাদের হৃদয় উদ্দীপনায় ভরে ওঠে। এই উদযাপন, ১৪০ কোটিরও বেশি দেশবাসীর সঙ্গে আমাদের এই মহান দেশের অংশ হওয়ার আনন্দকে প্রকাশ করে। আমরা যেভাবে নিজের পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন উৎসব উদযাপন করি, তেমনি আমরা আমাদের স্বাধীনতা দিবস এবং সাধারণতন্ত্র দিবসও উদযাপন করি আমাদের পরিবারের সঙ্গে, যার সদস্য আমাদের প্রত্যেক দেশবাসী।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৭৮তম স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভাষণ
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৭৮তম স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভাষণ

১৫ই আগস্ট-এর দিন, দেশ-বিদেশে বসবাসকারী সমস্ত ভারতীয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত গান এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। শিশুরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। আমরা যখন শিশুদের মুখে আমাদের মহান জাতি এবং ভারতীয় হওয়ার গৌরবের কথা শুনি, তখন আমরা তাদের অভিব্যক্তিতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ভাবনার প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। অনুভব করি যে আমরা এমন একটি ঐতিহ্যের অংশ যা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে একটি মালায় গাঁথছে, যা আগামী বছরগুলিতে আমাদের জাতিকে তার পূর্ণ গৌরব ফিরে পেতে সাহায্য করবে।

ইতিহাসের এই মালার একটি পুঁতি হওয়ার উপলব্ধি আমাদের মধ্যে নম্রতা জাগিয়ে তোলে। এই উপলব্ধি আমাদের সেই দিনগুলির কথা মনে করিয়ে দেয় যখন আমাদের দেশ, বিদেশি শাসনাধীন ছিল। দেশপ্রেম ও বীরত্বে পরিপূর্ণ দেশপ্রেমিকরা অনেক ঝুঁকি নিয়েছিলেন এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। আমরা তাঁদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার শক্তিতে ভারতের আত্মা কয়েক শতাব্দীর ঘুম থেকে জেগে ওঠে। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীরা আমাদের বিভিন্ন অন্তঃসলিলা ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নতুন অভিব্যক্তি প্রদান করেছিলেন। পথপ্রদর্শক নক্ষত্রের মতো, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহ্য ও সেগুলির বিচিত্র অভিব্যক্তিকে একত্রিত করেছিলেন।

এছাড়া সর্দার প্যাটেল, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং বাবাসাহেব আম্বেদকর আর ভগৎ সিং ও চন্দ্রশেখর আজাদের মতো অনেক মহান জননেতাও সক্রিয় ছিলেন। সেটি ছিল এক দেশব্যাপী আন্দোলন যাতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আদিবাসীদের মধ্যে তিলকা মাঁঝি, বিরসা মুণ্ডা, লক্ষ্মণ নায়ক এবং ফুলো-ঝানোর মতো আরও অনেকে ছিলেন, যাঁদের আত্মত্যাগ এখন প্রশংসিত হচ্ছে। আমরা ভগবান বিরসা মুণ্ডার জন্মবার্ষিকীকে আদিবাসী গর্ব দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করেছি। আগামী বছর তাঁর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় নবজাগরণে তাঁর অবদানকে আরও গভীরভাবে সম্মান জানানোর সুযোগ এনে দেবে ৷

আমার প্রিয় দেশবাসী,

আজ, ১৪ই আগস্ট তারিখে, আমাদের দেশে দেশভাগের বিভীষিকা স্মৃতি দিবস পালন করা হচ্ছে। আজ দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণ করার দিন। যেদিন আমাদের মহান দেশ বিভাজিত হয়েছিল, তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছিলেন । প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের একদিন আগে, আমরা সেই অভূতপূর্ব অমানবিক সন্ত্রাসকে স্মরণ করি আর সেই পরিবারগুলির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াই যাঁদের ছিন্ন-ভিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।

আমরা আমাদের সংবিধানের ৭৫ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছি। আমাদের সদ্য স্বাধীন জাতি তার যাত্রাপথে অনেক গুরুতর বাধার সম্মুখীন হয়েছে। ন্যায়বিচার, সাম্য, স্বাধীনতা এবং সৌভ্রাতৃত্বের সাংবিধানিক আদর্শকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে, বিশ্বমঞ্চে ভারত যাতে তার গৌরবময় স্থান ফিরে পায় তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

এবছর আমাদের দেশে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৯৭ কোটি, যা একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। মানব সম্প্রদায়, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাক্ষী হয়েছে। এমন একটি বিশাল অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু ও ত্রুটিমুক্ত পরিচালনার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই সমস্ত কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের, যাঁরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ভোটারদের সাহায্য করেছেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা আসলে গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি প্রবল সমর্থন জানানো। ভারতে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলে সারা বিশ্বের সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তি শক্তিশালী হয়।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

২০২১ থেকে ২০২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে গড়ে ৮ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির হার অর্জন করে ভারত দ্রুত ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে। এর ফলে দেশবাসীর হাতে বেশি অর্থ আসার পাশাপাশি, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যাঁরা এখনও দারিদ্রপীড়িত তাঁদের সাহায্য করার পাশাপাশি তাঁদের দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে তুলে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কোভিড-১৯ এর প্রাথমিক পর্যায়ে চালু করা প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনার মাধ্যমে প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে আজও বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হচ্ছে, যা – যারা সম্প্রতি দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছেন, তাঁরা যাতে আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে না চলে যান তা সুনিশ্চিত করছে।

এটা আমাদের সকলের জন্য গর্বের বিষয় যে ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, এবং আমরা শীঘ্রই বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই সাফল্য কৃষক-শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নীতিনির্ধারক ও শিল্পপতিদের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা এবং দেশের দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই সম্ভব হয়েছে।

আমাদের অন্নদাতা কৃষকরা প্রত্যাশার থেকে বেশি কৃষি উৎপাদন সুনিশ্চিত করেছেন। এভাবে তাঁরা ভারতকে কৃষিতে স্বনির্ভর করে তুলতে এবং আমাদের দেশবাসীকে খাদ্য সরবরাহ করতে একটি অমূল্য অবদান রেখেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথ ও বন্দরের নেটওয়ার্ক স্থাপনে সাহায্য করেছে। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিস্ময়কর সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে, সরকার সেমি-কন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রকে উৎসাহ যোগানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে এবং স্টার্ট-আপগুলির জন্য একটি আদর্শ বাস্তু-ব্যবস্থাও তৈরি করেছে যাতে সেগুলির উন্নয়ন গতি পায়। এর ফলে, ভারতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ আরও বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা আর্থিক ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে। এই সমস্ত পরিবর্তন অর্থনৈতিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ের মঞ্চ তৈরি করেছে, যেখান থেকে ভারত বিশ্বের উন্নত দেশগুলির অন্যতম হয়ে উঠবে।

ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশ্বে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। জি-২০ গোষ্ঠীর সভাপতিত্বের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে, ভারত গ্লোবাল সাউথের একটি দৃঢ় কণ্ঠস্বর হিসাবে নিজের ভূমিকাকে শক্তিশালী করেছে। ভারত তার প্রভাবশালী পরিস্থিতিকে বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি বিস্তারে ব্যবহার করতে চায়।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

আমাদের সংবিধান প্রণেতা ড. বি.আর. আম্বেদকরের কথাও সবসময় মনে রাখতে হবে। তিনি ঠিকই বলেছিলেন, এবং আমি তাঁকে উদ্ধৃত করছি, ‘আমাদের রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে পরিণত করতে হবে সামাজিক গণতন্ত্রে। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে সামাজিক গণতন্ত্র না থাকলে তা বেশিদিন টিঁকে থাকতে পারে না’। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে সামাজিক গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সমস্ত প্রচেষ্টার অগ্রগতি সুনিশ্চিত হয়। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার চেতনা আমাদের সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা যায়। আমাদের বৈচিত্র্য এবং বহুত্বকে সঙ্গে নিয়ে, আমরা একটি জাতি হিসাবে ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছি। অন্তর্ভুক্তির উপায় হিসাবে, ইতিবাচক পদক্ষেপগুলিকে শক্তিশালী করতে হয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ভারতের মতো একটি বিশাল দেশে, তথাকথিত সামাজিক স্তরগুলির ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রবণতাগুলিকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

সামাজিক ন্যায়বিচার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সরকার তপশিলি জাতি, তপশিলি জনজাতি এবং সমাজের অন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বেশ কিছু অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক অগ্রগতি এবং কর্মসংস্থান-ভিত্তিক জনকল্যাণ, অর্থাৎ পি এম-সুরজ-এর লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। প্রধানমন্ত্রীর জনজাতি ন্যায়বিচার মহা-অভিযান অর্থাৎ পিএম-জনমন একটি গণ অভিযানের রূপ নিয়েছে। এর অধীনে, বিশেষ করে দুর্বল জনজাতি গোষ্ঠীগুলির, অর্থাৎ PVTG-দের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাকশন ফর মেকানাইজড স্যানিটেশন ইকো-সিস্টেম অর্থাৎ ‘নমস্তে’ প্রকল্পের অধীনে, এটি সুনিশ্চিত করা হবে যাতে আর কোনও সাফাই কর্মীকে মাথায় করে ময়লা বহন করতে না হয় আর সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার ঝুঁকিপূর্ণ কাজ খালি হাতে না করতে হয়।

‘ন্যায়’ শব্দটির মধ্যে ব্যাপক অর্থে অনেক সামাজিক মাত্রা নিহিত রয়েছে। আমি এর মধ্যে দুটি মাত্রার ওপর বিশেষ জোর দিতে চাই। এই মাত্রাগুলি হল পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে ন্যায্য সমতা এবং জলবায়ুগত ন্যায়।

আমাদের সমাজে নারীদের শুধু সমান মর্যাদাই দেওয়া হয় না, বরং তার চেয়েও ওপরের স্তরের মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। তবে তাঁদেরও প্রথাগত কুসংস্কারের শিকার হতে হয়েছে। তবে, আমি একথা জেনে খুশি হয়েছি যে সরকার নারী কল্যাণ ও নারীর ক্ষমতায়নে সমান গুরুত্ব দিয়েছে। গত এক দশকে এই লক্ষ্যে বাজেট বরাদ্দ তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। শ্রমশক্তিতে তাঁদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মেয়েদের অনুপাতিক জন্মহারে উল্লেখযোগ্য উন্নতিকে সবচেয়ে উৎসাহব্যঞ্জক উন্নয়ন বলা যেতে পারে। সরকার মহিলা-কেন্দ্রিক অনেক বিশেষ প্রকল্পও বাস্তবায়িত করেছে। ‘নারী শক্তি বন্দন’ আইনের উদ্দেশ্য হল নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করা।

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তব সমস্যা হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য তাদের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন আনা আরও বেশি সমস্যা সৃষ্টির নামান্তর। তা সত্ত্বেও, আমরা সেই লক্ষ্যে আশাতীত অগ্রগতি করেছি। বিশ্ব উষ্ণায়নের সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে মানব সমাজ পরিচালিত সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পেরে ভারত গর্বিত। আমি আপনাদের সকলকে আপনাদের জীবনশৈলীতে ছোটো ছোটো কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন আনতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে অনুরোধ করছি।

ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গে, আমি এটাও উল্লেখ করতে চাই যে এই বছরের জুলাই থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করার মাধ্যমে, আমরা ঔপনিবেশিক যুগের আরও একটি ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলেছি। নতুন ন্যায় সংহিতার উদ্দেশ্য শুধু শাস্তির ভাবনা মাথায় না রেখে অপরাধের শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা। এই পরিবর্তনকে আমি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে দেখছি।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

আজকের যুবসমাজ আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ অর্থাৎ আজ থেকে আসন্ন প্রায় এক শতাব্দীর চারভাগের একভাগ সময়ে ‘অমৃত কাল’-কে বাস্তবে রূপ দেবে। তাঁদের শক্তি ও উদ্যমের বলেই আমাদের দেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আমাদের অগ্রাধিকার হল তরুণদের মন- মস্তিষ্ককে উন্নত করা এবং একটি নতুন মানসিকতা গড়ে তোলা, যা ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক জ্ঞানের সেরা দিকগুলিকে অগ্রাধিকার দেবে। এই প্রেক্ষিতে, ২০২০তে চালু হওয়া জাতীয় শিক্ষানীতির সুফল সামনে আসতে শুরু করেছে।

তরুণ সমাজের প্রতিভাকে ঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য সরকার দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মসংস্থান ও দক্ষতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পাঁচটি প্রকল্পের প্যাকেজে আগামী পাঁচ বছরে চার কোটি দশ লক্ষেরও বেশি যুবক যুবতী উপকৃত হবেন। সরকারের নতুন এক উদ্যোগের আওতায় এক কোটি তরুণ আগামী পাঁচ বছরে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপ করবেন। এই সমস্ত পদক্ষেপ উন্নত ভারত গঠনে মৌলিক অবদান রাখবে।

এই প্রেক্ষিতে, ভারতে, আমরা বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবিক অগ্রগতির উপায় হিসাবেও দেখি। উদাহরণস্বরূপ, ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য অন্যান্য দেশে মানদণ্ডের নিয়ামক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ভারত মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। আপনাদের সকলের সঙ্গে আমিও অধীর আগ্রহে আগামী বছরের গগনযান মিশন সূচনার অপেক্ষায় আছি। এই মিশনে, ভারতীয় মহাকাশযাত্রী দলকে এদেশের প্রথম মনুষ্যবাহী যানে মহাকাশে নিয়ে যাওয়া হবে।

আমাদের দেশ গত এক দশকে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও অনেক উন্নতি করেছে। সরকার ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে যথাযথ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং তার সুফল অবশ্যই চোখে পড়ার মত। সদ্য সমাপ্ত প্যারিস অলিম্পিকে ভারতীয় দল নিজেদের সেরা প্রয়াস তুলে ধরেছে। আমি খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করছি । তাঁরা তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছেন। ক্রিকেটে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে, ফলে বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটপ্রেমী আনন্দিত হয়েছেন । দাবায় অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী তরুণ খেলোয়াড়রা দেশকে গর্বিত করেছেন । একে দাবায় ভারতীয় যুগের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাডমিন্টন, টেনিস এবং অন্যান্য খেলায় আমাদের তরুণরা বিশ্ব মঞ্চে তাঁদের ছাপ ফেলছেন। তাঁদের সাফল্য পরবর্তী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করেছে।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

সমগ্র দেশ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য উদ্গ্রীব। এই উদযাপন উপলক্ষ্যে আমি আর একবার আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। আমি বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর সেই সাহসী সৈনিকদের অভিনন্দন জানাই, যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেন। আমি পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানাই যাঁরা সারা দেশে সতর্ক নজরদারী বজায় রেখেছেন। আমি বিচার বিভাগ এবং অসামরিক সেবার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের পাশাপাশি নানা দেশে কর্মরত আমাদের সমস্ত দূতাবাস কর্মীদেরও আমার শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের প্রবাসী ভারতীয়দেরকেও আমার অনেক শুভেচ্ছা! আপনারা সবাই আমাদের পরিবারের অংশ, আপনারা নিজেদের কৃতিত্ব দিয়ে আমাদের গর্বিত করে চলেছেন, আপনারা সবাই বিদেশে সগর্বে ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

আরও একবার, আমার পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই! ধন্যবাদ!

জয়হিন্দ !

জয় ভারত !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *