সিকিমে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তিস্তা ব্যারেজের বাঁধ ভেঙে উত্তরবঙ্গের চার জেলায় বন্যা

সিকিমে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তিস্তা ব্যারেজের বাঁধ ভেঙে উত্তরবঙ্গের চার জেলায় বন্যা

রাজ্যের খবর

সিকিমে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তিস্তা ব্যারেজের বাঁধ ভেঙে উত্তরবঙ্গের চার জেলায় বন্যা – উত্তর সিকিমের লোনাক লেকে আকস্মিক মেঘভাঙা বৃষ্টিতে লাচেন উপত্যকার তিস্তা নদীতে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয় । চুংথাং বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ফলে জলস্তর ১৫ থেকে ২০ ফুট বৃদ্ধি পায় । ফলে সিংতামের কাছে বারদাং-এ দাঁড় করিয়ে রাখা সেনা বাহিনীর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । ২৩ জন সেনাকর্মী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে । ৪১টি যানবাহন তলিয়ে গেছে । তল্লাশি অভিযান চলছে ।

সিকিমে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তিস্তা ব্যারেজের বাঁধ ভেঙে উত্তরবঙ্গের চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । নবান্নে জরুরি বৈঠক শেষে মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী জানান, কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির বিস্তৃর্ণ এলাকায় বন্য়া পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে । মেখলিগঞ্জের পরিস্থিতিও খারাপ । উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে ।

এদিন বাড়ি থেকেই ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় পরিস্থিতির ওপর রাখেন । তিনি বলেন, ডিভিসি জল ছাড়ায় হাওড়া, হুগলী, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ার নীচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে । ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চলছে ।

সিকিমে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তিস্তা ব্যারেজের বাঁধ ভেঙে উত্তরবঙ্গের চার জেলায় বন্যা
সিকিমে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তিস্তা ব্যারেজের বাঁধ ভেঙে উত্তরবঙ্গের চার জেলায় বন্যা

গজলডোবায় তিস্তা ব্যারেজ থেকে উদ্ধার হল ২ জনের মৃত দেহ । বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, তিস্তা ব্যারেজ ডিভিশনের সেচ, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন । আজ সকাল ১০টায় তিস্তা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হয়েছে এক হাজার ২৫২ দশমিক চার শুন্য় কিউসেক । এতে নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে । দেখা দিয়েছে হড়পা বান । তিস্তা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে । পাহাড়ি এলাকা থেকে বিভিন্ন জিনিস গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজে ভেসে আসে । মোট চারটি ব্লকে ১৭টি শিবিরে ৩হাজার ২৮৮ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে । নীচু এলাকায় সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে । শিলিগুড়ি-সিকিম জাতীয় সড়ক বন্ধ । ফলে বহু পর্যটক, শ্রমিক আটকে পড়েছে NJP স্টেশনে ।

ভারি বৃষ্টি পাতের ফলে উত্তর ও পুর্ব সিকিম এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ড্যাম। যার ফলে তিস্তা নদীর জল মারাত্মক ভাবে বেরেছে। মালবাজার মহকুমার গজলডোবায় তিস্তার বহু লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজ থেকে প্রায় ৭০০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। তিস্তার ডাউন স্টিমে বসবাসকারি সাধারন মানুষকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয় ৷ তিস্তায় অতিরিক্ত জল জমারবর জন্য গজলডোবায় জলের চাপ বেরে যায়। সেই জন্য বেশির ভাগ লক গেট খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সময় যত বেড়েছে জলের পরিমানও বাড়েছে গজলডোবার তিস্তা নদীতে । জানা গেছে গজলডোবার ৩৫ টির মধ্যে ৩২ টি লক গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত জল বারছে। গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ থেকে ৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। যা এই বছর পরিমানের অঙ্কে সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে। জলপাইগুড়িতে তিস্তার সংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সংঙ্কেত জারি হয়েছে। সংরক্ষিত এলাকায় লাল সংঙ্কেত জারি করা হয়েছে। জলপাইগুড়িতে টানা বৃষ্টি চলছে গতকাল থেকে কখনও ঝিরঝিরে। জলপাইগুড়ির তিস্তা নদীর নীচু এলাকার লোকজনকে প্রশাসনের তরফ মাইকিং করে থেকে সতর্ক করা হচ্ছে।

সিকিমের চুমথাং ড্যামের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দরুণ উত্তর সিকিমের কাছে তিস্তার জল প্রবেশ করেছে ৷ যার জেরে তিস্তা নদী জল আটকে রাখতে পারা যাচ্ছেনা। গাজলডোবার তিস্তা ব্যারেজেও আটকে রাখা যাচ্ছেনা। এতো জল যার দরুণ ক্রান্তির বাসুসুবা থেকে ময়নাগুড়ি হয়ে দোমহনী অবধি তিস্তার জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইবে ৷ নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভোর থেকেই ক্রান্তির বিডিও প্রবীর কুমার সিনহা এবং মাল এস ডি এ তিস্তার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন । এবং মানুষ জনকে নিরাপদে চলে আসার জন্য জানান। প্রচুর মানুষ তিস্তার চড়ে চাষাবাদ করছেন এই মুহুর্তে। গবাদিপশু নিয়ে অনেকেই সেখানে আছেন। সকলে যাতে নিরাপদ জায়গাতে চলে আসে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভরা তিস্তায় নৌকায় চেপে যাতে কেউ পাড়ি না দেন সেজন্য বলা হচ্ছে। যদিও জেলা প্রশাসন এখনও কোন নির্দেশ জারি করেনি। জলপাইগুড়ি তিস্তা নদীর দোমহনী থেকে বাংলাদেশ সীমানার সংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সংকেত জারি করেছে । এবং অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। জল বাড়ার ফলে নদীর পারের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই মুহূর্তে জল ছাড়ার পরিমাণ বেলা বাড়োটা থেকে খানিকটা কমেছে। জলপাইগুড়ির সমস্ত বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *