রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর ৩ দেশ সফরের শেষ দফায় তিমোরলেস্তে যাবেন আগামীকাল – এই প্রথম কোন ভারতীয় রাষ্ট্রপতির তিমোরলেস্তে যাচ্ছেন । তাঁর এই সফরকে ঘিরে সেদেশে সাজোসাজোরব । দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপ তিমোরলেস্তে বিশ্বের নবীনতম দেশের অন্যতম । এক সময়ে পর্তুগালের অধীন ছিল তিমোরলেস্তে । পর্তুগাল থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার ঔপোনিবেশে পরিণত হয় । অবশেষে ২০০২ সালে স্বাধীন দেশের পরিচয় পায় তিমোরলেস্তে । ইন্দোনেশিয়া থেকে দেড় ঘণ্টা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে মাত্র আধ ঘণ্টার দূরে অবস্থিত এই দেশ । রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র তিমোরলেস্তের সফরকে ঘিরে সেখানকার সরকার স্থানীয় জনগণ ও প্রবাসী ভারতীরা উৎসাহী । সফরকালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তিমোরলেস্তের রাষ্ট্রপতি হোজে রামোজহোর্তা ও প্রধানমন্ত্রী জানানা গুসমাউয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন । দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে । তিমোরলেস্তেতে WHO প্রতিনিধি ডঃ অরবিন্দ মাথুর বলেন, রাষ্ট্রপতির এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করবে ।
অন্যদিকে, তিমোরলেস্তের উপদেষ্টা বেন্সি আহাসাক বলেন, বায়োটেকনোলজি, টিসু কালচার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত অন্যান্য দেশ থেকে এগিয়ে । ভারতীয় প্রযুক্তি তিমোরলেস্তের কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন ।
ভারত ও তিমোরলেস্তের সম্পর্ক বহু পুরোনো । একসময়ে ভারতের গোয়া ও তিমোরলেস্তের দুটিই পর্তুগালের কলোনী ছিল । গোয়া থেকে তিমোরলেস্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ চালাত পর্তুগাল । সেই সময় গোয়া থেকে বেশকিছু ভারতীয় তিমোরলেস্তেতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন বলেও মনে করা হয় । ভারতীয়দের প্রতি তিমোরলেস্তের জনগণের ব্যবহার অত্যন্ত আন্তরিক । এখানকার জনগণ বলিউডের সিনেমা ও গানে বিশেষ প্রেমী ।
তিমোরলেস্তে প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি দেশ । এখানে বিপুল পরিমান তেল ও গ্যাসের ভান্ডার রয়েছে । কৃষিকাজের জন্য রয়েছে বিস্তৃত জমি । কফি ক্ষেত্রে উৎপাদনের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে । প্রয়োজন নতুন এই দেশটিতে প্রাথমিক সুয়োগ সুবিধা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের । আর এই জন্য এখানকার জনগণ ভারতের প্রতি বিশেষ আশাবাদী ।
