বৃদ্ধ বয়সেও সংবাদপত্রের বিবর্তনের ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যস্ত চিত্র সাংবাদিক সত্যজিৎ চক্রবর্তী – দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশী সময় ধরে তিনি সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৭০ এর গোড়ায় সেই কালান্তর দৈনিক পত্রিকা থেকে শুরু। তারপর নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে ইংরাজী ‘দা স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় ১৯৭৫ সালে এপ্রেন্টিস হিসাবে যোগ দেন। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৭৯ সালে স্থায়ী কর্মী এবং ২০০০ এ ফটো লাইব্রেরিত ট্রান্সফার করা হয় এডিটোরিয়াল স্টাফ হিসাবে। এভাবেই জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই সংবাদপত্রে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন হুগলির ডানকুনি হাউসিং-এর বাসিন্দা সত্যজিৎ চক্রবর্তী।
২০০৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসে অবসর গ্রহণের পরেও থেমে থাকেননি। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নতুন করে কর্মজীবন শুরু করেছেন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার ও রিপোর্টার হিসাবে। সত্যজিৎ চক্রবর্তী জন্ম ভারত স্বাধীন হওয়ার মাত্র ৩৫ দিন আগে ১৯৪৭ সালের ১০ই জুলাই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ অধুনা বাংলাদেশে। পরে কর্মসূত্রে চলে আসেন কলকাতার বেলেঘাটায়। এর পর হাওড়ার শিবপুরে। আবার নতুন করে কর্মজীবন শুরু করে। হুগলির ডানকুনি হাউসিং-এ বসবাস শুরু করেন। স্টেটসম্যান থেকে অবসর গ্রহণের পরেও বর্তমানে ৭৬ বছরের দোরগোড়ায় পৌঁছেও নিয়মিতভাবে সাংবাদিকতা করে চলেছেন দৈনিক স্ট্যাটসম্যান, দৈনিক গণমাধ্যম, আর্থিক লিপি, অভয়বঙ্গ দৈনিক হিন্দী, সংবাদ পরিবর্তন, হেলো কলকাতা, বাংলা লাইভ সহ অনেক সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকায়। কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশী চিত্রসংবাদিক হিসাবে কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়।
এই বয়সেও সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন ডানকুনি হাউসিং থেকে ট্রেনে অথবা বাসে চড়ে চলে আসেন কলকাতায়। প্রেসক্লাবে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদপত্রের অফিসে ঘুরে ঘুরে সংবাদ সরবরাহ করেন। স্ত্রী বিয়োগ হয়েছেন কয়েক মাস আগে। ছেলে বউ কাজে বেরিয়ে যান প্রতিদিন। দীর্ঘদিনের পথ চলার সঙ্গী চলে যাওয়ায় কিছুটা একা হয়ে পড়েছেন বটে, তবু নিজের কর্মজগৎ এবং সংবাদপত্রের বিবর্তনের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সারাক্ষণ কর্মব্যস্ততায় ধরে রেখেছেন নিজেকে।
বৃদ্ধ বয়সেও সংবাদপত্রের বিবর্তনের ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যস্ত চিত্র সাংবাদিক সত্যজিৎ চক্রবর্তী
সত্যজিৎ বাবু বলেন, আমার কোনো বাঁধাধরা সংবাদ পরিবেশন ছিলোনা। রাজনীতি থেকে বিনোদন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ছবি তুলতাম। দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শংকর দয়াল শর্মার, প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী, চন্দ্রশেখর, নামকরা ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর, কপিলদেব, সৌরভ গাঙ্গুলী, চুনী গোস্বামী পি কে ব্যানার্জির বর্তমান সাংসদ প্রসূন ব্যানার্জীর মতো ফুটবলার, অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান থেকে অনেক সেলিব্রেটিদের ছবি তুলেছি। এই ভাবে দীর্ঘ ৫০ বেশি সময় চিত্ৰসাংবাদিকতা করে চলেছি। এখনও কাজ করে চলেছি। সত্যজিৎ বাবু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করে রিজিওনাল ইনস্টিটিউট প্রিন্টিং টেকনোলজী থেকে ডিপ্লমা ইন গ্রাফিক আর্ট পাশ করেন।
বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন শিল্পয়তন থেকে, জুনিয়ার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং (জেডিই) হোল্ডার। পরে আই টি আই (হাওড়া হোম) কম্পোজিটর এন্ড প্রুফ রিডার সার্টিফিকেট কোর্স করে। এর পর দ্য স্টেটসম্যানে ট্রেড এপ্রেন্টিস হিসাবে যোগ দেন। সত্যাজিত বাবুর নেশা বিবাহে আমন্ত্রিত কার্ড সংগ্রহ করা। ২০০৬ সালে কর্মস্থল থেকে অবসর নেবার পর যত গুলি বিবাহ বৌভাতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন সকল কার্ড যত্ন সহকারে রাখা আছে তার পড়ার ঘরের টেবিলে।
বৃদ্ধ বয়সেও সংবাদপত্রের বিবর্তনের ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যস্ত চিত্র সাংবাদিক সত্যজিৎ চক্রবর্তী
এছাড়া তৎকালীন সময়ের পুরনো ক্যামেরা, রিল, ফটোগ্রাফ, এমনকি যেসব সংবাদপত্রে তার ছবি বেরিয়েছে বা লেখা বেরিয়েছে সেগুলিও যত্ন করে রেখেছেন। বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়লেও নতুন প্রজন্মের কাছে যাতে সেই’ লেটার প্রেস থেকে আজকের ডিজিটাল যুগের সংবাদপত্রের বিবর্তন’ তুলে ধরতে পারেন তাই নিজেই শুরু করেছেন সেইসব নথির ডিজিটাইজেশনের কাজ।
আরও পড়ুনঃ
- কারক ও বিভক্তি কাকে বলে? | শিক্ষা – Madhyamik 2023
- পিএস ভোপাল যেটির পরিবর্তিত নাম বেঙ্গল প্যাডেল, এখন পর্যটনক্ষেত্র
- উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় কেশর চাষে সফলতা পেলেন বিজ্ঞানীরা
- ভারতের মন্দির – জ্বালামুখী (Jawalamukhi)
- অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র আদিনা মসজিদ
- বর্ধমানের বোর হাটের সাধক কমলাকান্তের কালীবাড়ি
- অশােকস্তম্ভ – এর ইতিহাস
- পদান্বয়ী অব্যয় কাকে বলে?
- Number: – Types, Rules & Examples (English Grammar) বাংলায় বচন কি, কত প্রকার
- Pronoun (সর্বনাম) কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? উদাহরণ দাও
- একান্নটি সতীপীঠের অন্যতম বীরভূমের কঙ্কালীতলা
- নদীয়ার কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর রাজরাজেশ্বরী মাতার পুজো
