বীরভূমের দুর্গাপুজো প্রস্তুতি ২০২৩ – দুর্গাপুজোর আজ চতুর্থী। বীরভূমেও দুর্গাপূজার প্রস্তুতি জোর কদমে চলছে। জেলায় পারিবারিক ও সার্বজনীন মিলিয়ে ৩,৫৩৭ টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের কেন্দ্রগড়িয়া গ্রামে বনেদি জমিদার বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপুজো !
বীরভূম জেলার খয়রাশোল ব্লকে কেন্দ্রগড়িয়া গ্রামে সরকার বাড়ির শতাব্দী প্রাচীন দুর্গাপুজো এখনো চলে আসছে স্ব-মহিমায়। মন্দির চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দুর্গা প্রতিমাকে বসানো হচ্ছে বেদীতে। তারই শেষ মুহূর্তের কিছু ব্যস্ততা ধরা পড়লো current news এর ক্যামেরায়।
উল্লেখ্য, গ্রামের জমিদার নীলমাধব সরকারের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনেই আজও পুজো হয়। শরিকরা প্রবাসে থাকলেও প্রবীন রন্তিদেব সরকার একক দায়িত্বে এই পুজোর ভার সগৌরবে বিধিবিধান মেনে পালন করছেন। পুজোর কদিন বাইরে থাকা মানুষজন গ্রামে এসে সমবেত হন। পুজো উপলক্ষে চলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ।
বীরভূমের “সাঁইথিয়া জয়তু সুভাষ গোষ্ঠীর” দুর্গাপূজো। বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া জয়তু সুভাষ গোষ্ঠীর দুর্গাপুজো প্রতিবছর জেলাবাসীর নজর কাড়ে। প্রত্যেক বছর তারা বিভিন্ন ভাবনায় মন্ডপ সজ্জা করে থাকে। কখনো ৫১ সতীপীঠে আদলে, কিংবা মহাভারত, নবদুর্গা, দশমহাবিদ্যা, বিশেষভাবে মাইথোলজিকে বেছে বেছে তারা মণ্ডপ সজ্জা করে। এবার ২০২৩ এর থিম “দেবীবরণ”। বোধন থেকে বিসর্জন দেবীকে যেভাবে বরণ করা হয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এবার উঠে এসেছে জয়তু সুভাষ গোষ্ঠীর পুজো মন্ডপে। এবারও একচালি মূর্তি। প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক হিসাবে সামিয়ানা, তালপাতার বড় পাখা, কুলো, মঙ্গল ঘট এসব দিয়েই সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুজো মন্ডপ। বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের “হালসোত” গ্রামে সরকার বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপুজো।

গ্রাম প্রধান জেলা বীরভূম। জেলায় সার্বজনীন পুজোর পাশাপাশি পারিবারিক পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের ‘হালসোত’ গ্রামে সরকার বাড়ির পারিবারিক পুজো। এবছর ৪০২ বছরে পড়ল। গ্রামে একটি মাত্র পুজো এখন সর্বজনীন রূপ নিয়েছে।রাজনগরের প্রধান সেনাপতি ছিলেন শম্ভু শর্মা। তিনিই এই দুর্গা পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন। এখনও সেই সাবেক প্রথায় একচালি মূর্তি নির্মিত হয়। বৈদিক মন্ত্রে হয় পুজোপাঠ। জমিদারি প্রথায় সেই আমল থেকেই পাঁঠা বলি হত। তবে সম্প্রতি বিঘ্ন ঘটায় পশু বলি বন্ধ হয়েছে। পরিবর্তে সেনাপতির সেই তলোয়ারে আজও হয় কুমড়ো বলি। এই ইতিহাস সম্পর্কে জানান সরকার বাড়ির পরিবারের প্রধান ক্ষেত্রনাথ সরকার।
বীরভূমের রামপুরহাট চাঁদমারি আবাসিক বৃন্দ দুর্গাপুজো কমিটির দুর্গোৎসব। বীরভূমের রামপুরহাট চাঁদমারি আবাসিক বৃন্দ দুর্গোৎসব কমিটির পুজো এবার ১৯ বছরে পা রেখেছে। এবার তাদের মন্ডপ সজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে চন্দ্রযান – ৩। মন্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেই চন্দ্রযানের রকেট ইসরো এবং ভারতের গর্বের কথা। মন্ডপ সজ্জা নিখুঁতভাবে তৈরি করতে মহিলারাও হাত লাগিয়েছেন।
বীরভূমের সিউড়িতে অন্যতম নজরকাড়া পুজো সিউড়ি দত্তপুকুর পাড়ার “চৌরঙ্গী ক্লাব”-এর দুর্গাপুজো এবছর ৪৪তম বর্ষে পদার্পণ করল। প্রয়াত থিম মেকার রবিউল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিউড়ি চৌরঙ্গী ক্লাবের এবারের থিম-‘শ্রদ্ধাঞ্জলী’। প্রবেশ পথের দুধারে কাগজের কাপের তৈরি প্রদীপ। মন্ডপ জুড়ে পেপার কাটিং-এ শিল্পী রবিউলের শিল্পকর্মের কোলাজ।
উল্লেখ্য, বীরভূম জেলার প্রথম থিম পুজোর সূচনা হয়েছিল এই থিম শিল্পী রবিউলের হাত ধরে। দীর্ঘ এক দশক তিনি জড়িয়েছিলেন এই ক্লাবের পূজোর সঙ্গে। তাঁর অকাল প্রয়াণে তাই তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন সিউড়ির দত্ত পুকুরের “চৌরঙ্গী ক্লাব”। মন্ডপের সিলিং জুড়ে নানা ধরনের শিল্পকর্ম চোখ জুড়াবে। প্রতিমাতেও থিমের ছোঁয়া। এবার এই পুজোর বাজেট ১২লক্ষ টাকা। এবার ২০২৩ এর থিম শিল্পী বাঁকুড়ার দেবাশীষ কর্মকার। প্রতিমা নির্মাণ করেছেন হেতমপুরের সরোজিৎ কর্মকার। আলোকসজ্জায় চূচূড়া-চন্দননগরের।
# বীরভূমের দুর্গাপুজো প্রস্তুতি ২০২৩
আরও পড়ুনঃ
- কারক ও বিভক্তি কাকে বলে? | শিক্ষা – Madhyamik 2023
- পিএস ভোপাল যেটির পরিবর্তিত নাম বেঙ্গল প্যাডেল, এখন পর্যটনক্ষেত্র
- উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় কেশর চাষে সফলতা পেলেন বিজ্ঞানীরা
- ভারতের মন্দির – জ্বালামুখী (Jawalamukhi)
- অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র আদিনা মসজিদ
- বর্ধমানের বোর হাটের সাধক কমলাকান্তের কালীবাড়ি
- অশােকস্তম্ভ – এর ইতিহাস
- পদান্বয়ী অব্যয় কাকে বলে?
- Number: – Types, Rules & Examples (English Grammar) বাংলায় বচন কি, কত প্রকার
- Pronoun (সর্বনাম) কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? উদাহরণ দাও
- একান্নটি সতীপীঠের অন্যতম বীরভূমের কঙ্কালীতলা
- নদীয়ার কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর রাজরাজেশ্বরী মাতার পুজো
